শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

Ami Nishidin Tomay Bhalobashi - আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি

Ami Nishidin Tomay Bhalobashi 

আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি।

-
আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি,
তুমি অবসরমত বাসিয়ো।
নিশিদিন হেথায় বসে আছি,
তোমার যখন মনে পড়ে আসিয়ো ॥
আমি সারানিশি তোমা-লাগিয়া
রব বিরহশয়নে জাগিয়া--
তুমি নিমেষের তরে প্রভাতে
এসে মুখপানে চেয়ে হাসিয়ো ॥
তুমি চিরদিন মধুপবনে
চির-বিকশিত বনভবনে
যেয়ো মনোমত পথ ধরিয়া
তুমি নিজ সুখস্রোতে ভাসিয়ো।
যদি তার মাঝে পড়ি আসিয়া
তবে আমিও চলিব ভাসিয়া,
যদি দূরে পড়ি তাহে ক্ষতি কী--
মোর স্মৃতি মন হতে নাশিয়ো ॥
.
রাগ: মিশ্র গৌরী
তাল: কাহারবা-দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1296
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1889

আমার পরান যাহা চায় তুমি তাই - Amar Poran Jaha Chai

 আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো। 
তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর, কেহ নাই কিছু নাই গো। তুমি সুখ যদি নাহি পাও, যাও, সুখের সন্ধানে যাও, আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে, আর কিছু নাহি চাই গো। 
আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস, 
দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ মাস। 
যদি আর কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস, 
তবে, তুমি যাহা চাও, তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো। 
রাগ: পিলু তাল: ত্রিতাল 
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): অগ্রহায়ণ, ১২৯৫ 
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1888 
রচনাস্থান: কলকাতা, দার্জিলিং 
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর

সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১৮

আলোর অমল কমলখানি কে ফুটালে

আলোর অমল কমলখানি কে ফুটালে,
নীল আকাশের ঘুম ছুটালে॥
আমার মনের ভাব্নাগুলি বাহির হল পাখা
তুলি,
ওই কমলের পথে তাদের সেই জুটালে॥
শরতবাণীর বীণা বাজে কমলদলে।
ললিত রাগের সুর ঝরে তাই শিউলিতলে।
তাই তো বাতাস বেড়ায় মেতে কচি ধানের
সবুজ ক্ষেতে,
বনের প্রাণে মর্মরানির ঢেউ উঠালে॥
-
রাগ: রামকেলী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ফাল্গুন, ১৩৩৩
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1927
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে

মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে।
মধুর মলয়-সমীরে মধুর মিলন রটাতে॥
কুহক লেখনী ছুটায়ে কুসুম তুলিছে ফুটায়ে,
লিখিছে প্রণয়-কাহিনী বিবিধ বরন-ছটাতে।
হেরো পুরানো প্রাচীন ধরণী   হয়েছে শ্যামলবরনী,
যেন যৌবন-প্রবাহ ছুটিছে কালের শাসন টুটাতে;
পুরানো বিরহ হানিছে, নবীন মিলন আনিছে,
নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে॥
-
রাগ: বাহার
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): অগ্রহায়ণ, ১২৯৫
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1888
রচনাস্থান: কলকাতা, দার্জিলিং
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী

ওরে মাঝি, ওরে আমার মানবজন্মতরীর মাঝি

ওরে মাঝি, ওরে আমার মানবজন্মতরীর মাঝি,
শুনতে কি পাস দূরের থেকে পারের বাঁশি উঠছে বাজি॥
তরী কি তোর দিনের শেষে ঠেকবে এবার ঘাটে এসে।
সেথায় সন্ধ্যা-অন্ধকারে দেয় কি দেখা প্রদীপরাজি॥
যেন আমার লাগে মনে মন্দ-মধুর এই পবনে
সিন্ধুপারের হাসিটি কার আঁধার বেয়ে আসছে আজি।
আসার বেলায় কুসুমগুলি কিছু এনেছিলেম তুলি,
যেগুলি তার নবীন আছে এই বেলা নে সাজিয়ে সাজি॥
-
রাগ: শ্রী
তাল: একতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৭ শ্রাবণ, ১৩১৭
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1910
রচনাস্থান: বোলপুর
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে

চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে
নিয়ো না নিয়ো না সরায়ে।
জীবণ মরণ সুখ দুখ দিয়ে
বক্ষে ধরিব জড়ায়ে॥
স্খলিত শিথিল কামনার ভার
বহিয়া বহিয়া ফিরি কত আর,
নিজ হাতে তুমি গেঁথে নিয়ো হার,
ফেলো না আমারে ছড়ায়ে॥
বিকায়ে বিকায়ে দীন আপনারে
পারি না ফিরিতে দুয়ারে দুয়ারে,
তোমার করিয়া নিয়ো গো আমারে
বরণের মালা পরায়ে॥

হৃদয় বসন্তবনে যে মাধুরী বিকাশিল

হৃদয় বসন্তবনে যে মাধুরী বিকাশিল
সেই প্রেম সেই মালিকায় রূপ নিল,
রূপ নিল।
এই ফুলহারে প্রেয়সী তোমারে
বরণ করি
অক্ষয় মধুর সুধাময়
হোক মিলনবিভাবরী।
প্রেয়সী তোমায় প্রাণবেদিকায়
প্রেমের পূজায় বরণ করি॥
কহো কহো মোরে প্রিয়ে,
আমারে করেছ মুক্ত কী সম্পদ দিয়ে।
অয়ি বিদেশিনী,
তোমার কাছে আমি কত ঋণে ঋণী।