একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি--
তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী।
কিছু পলাশের নেশা, কিছু বা চাঁপায় মেশা,
তাই দিয়ে সুরে সুরে রঙে রসে জাল বুনি॥
যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে
চকিত মনের কোণে স্বপনের ছবি আঁকে।
যেটুকু যায় রে দূরে ভাবনা কাঁপায় সুরে,
তাই নিয়ে যায় বেলা নূপুরের তাল গুনি॥
-
রাগ: কালাংড়া
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২ ফাল্গুন, ১৩৩৪
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি -
জানি, জানি হল যাবার আয়োজন -
জানি, জানি হল যাবার আয়োজন—
তবু পথিক, থামো কিছুক্ষণ॥
শ্রাবণগগন বারি-ঝরা,
কাননবীথি ছায়ায় ভরা,
শুনি জলের ঝরোঝরে
যূথীবনের ফুল-ঝরা ত্রন্দন॥
যেয়ো— যখন বাদলশেষের পাখি
পথে পথে উঠবে ডাকি।
শিউলিবনের মধুর স্তবে
জাগবে শরতলক্ষ্মী যবে,
RabindraNath Tagore Picture post 2
RabindraNath Tagore
painting image
-
www.facebook.com/RobindraSangeet
-
www.Twitter.com/RobindraSangeet
-
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
চলো যাই, চলো, যাই চলো, যাই --
চলো যাই, চলো, যাই চলো, যাই—
চলো পদে পদে সত্যের ছন্দে
চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে!
চলো মুক্তিপথে,
চলো বিঘ্নবিপদজয়ী মনোরথে
করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন—
স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।
থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ
জড়তার জর্জর বন্ধে।
বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়—
মুক্তির জয় বলো ভাই॥
-
পর্যায় - স্বদেশ
-
www.facebook.com/RobindraSangeet
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পাতার ভেলা ভাসাই নীরে, পিছন-পানে চাই নে ফিরে ॥ - Patar Vela Vashay Nere
পাতার ভেলা ভাসাই নীরে,
পিছন-পানে চাই নে ফিরে ॥
কর্ম আমার বোঝাই ফেলা,
খেলা আমার চলার খেলা।
হয় নি আমার আসন মেলা,
ঘর বাঁধি নি স্রোতের তীরে ॥
বাঁধন যখন বাঁধতে আসে
ভাগ্য আমার তখন হাসে।
ধুলা-ওড়া হাওয়ার ডাকে পথ
যে টেনে লয় আমাকে--
নতুন নতুন বাঁকে বাঁকে
গান দিয়ে যাই ধরিত্রীরে ॥
-
রাগ: পিলু-বৃন্দাবনী সারং
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): চৈত্র, ১৩৩২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1926
রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
এতদিন তুমি সখা, চাহ নি কিছু
এতদিন তুমি সখা, চাহ নি কিছু;
নীরবে ছিলে করি নয়ন নিচু।
রাজ-অঙ্গুরী মম করিলাম দান,
তোমারে দিলাম মোর শেষ সম্মান।
তব বীর-হাতে এই ভূষণের সাথে
আমার প্রণাম যাক তব পিছু পিছু।
শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না--
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
কান্নাহাসির বাঁধন তারা সইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
আমার প্রাণের গানের ভাষা
শিখবে তারা ছিল আশা--
উড়ে গেল, সকল কথা কইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
স্বপন দেখি, যেন তারা কার আশে
ফেরে আমার ভাঙা খাঁচার চার পাশে--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
এত বেদন হয় কি ফাঁকি।
ওরা কি সব ছায়ার পাখি।
আকাশ-পারে কিছুই কি গো বইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
-
রাগ: ইমন-পূরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1325
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1918
শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
কত যে তুমি মনোহর মনই তাহা জানে,
কত যে তুমি মনোহর মনই তাহা জানে,
হৃদয় মম থরোথরো কাঁপে তোমার গানে॥
আজিকে এই প্রভাতবেলা মেঘের সাথে রোদের খেলা,
জলে নয়ন ভরোভরো চাহি তোমার পানে॥
আলোর অধীর ঝিলিমিলি নদীর ঢেউয়ে ওঠে,
বনের হাসি খিলিখিলি পাতায় পাতায় ছোটে।
আকাশে ওই দেখি কী যে—
তোমার চোখের চাহনি যে।
সুনীল সুধা ঝরোঝরো ঝরে
আমার প্রাণে॥
যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে --
যদি তারে নাই চিনি গো
সে কি আমায় নেবে চিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে--
জানি নে জানি নে॥
সে কি আমার কুঁড়ির কানে
কবে কথা গানে গানে,
পরান তাহার নেবে কিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে--
জানি নে, জানি নে॥
সে কি আপন রঙে ফুল রাঙাবে।
সে কি মর্মে এসে ঘুম ভাঙাবে।
ঘোমটা আমার নতুন পাতার হঠাৎ
দোলা পাবে কি তার। ,
গোপন কথা নেবে জিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে--
জানি নে, জানি নে॥
শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
মনে রবে কি না রবে আমারে সে আমার মনে নাই।
মনে রবে কি না রবে আমারে
সে আমার মনে নাই।
ক্ষণে ক্ষণে আসি তব দুয়ারে,
অকারণে গান গাই॥
চলে যায় দিন, যতখন আছি পথে
যেতে যদি আসি কাছাকাছি
তোমার মুখের চকিত সুখের হাসি
দেখিতে যে চাই--
তাই অকারণে গান গাই॥
ফাগুনের ফুল যায় ঝরিয়া
ফাগুনের অবসানে--
ক্ষণিকের মুঠি দেয় ভরিয়া,
আর কিছু নাহি জানে।
ফুরাইবে দিন, আলো হবে ক্ষীণ,
গান সারা হবে, থেমে যাবে বীন,
যতখন থাকি ভরে দিবে না কি এ খেলারই ভেলাটাই--
তাই অকারণে গান গাই॥
-
রাগ: খাম্বাজ
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৯ ফাল্গুন, ১৩৩৩
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ৩ মার্চ, ১৯২৭
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে,
কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে,
তখন তুমি ছিলে না মোর সনে॥
যে কথাটি বলব তোমায় ব’লে কাটল জীবন নীরব চোখের জলে
সেই কথাটি সুরের হোমানলে উঠল জ্বলে একটি আঁধার ক্ষণে—
তখন তুমি ছিলে না মোর সনে॥
ভেবেছিলেম আজকে সকাল হলে
সেই কথাটি তোমায় যাব বলে।
ফুলের উদাস সুবাস বেড়ায় ঘুরে,
পাখির গানে আকাশ গেল পূরে,
সেই কথাটি লাগল না সেই সুরে যতই প্রয়াস করি পরানপণে—
যখন তুমি আছ আমার সনে॥
বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান
আমি হেথায় থাকি শুধু
গাইতে তোমার গান,
দিয়ো তোমার জগৎসভায়
এইটুকু মোর স্থান।
আমি তোমার ভুবন-মাঝে
লাগি নি নাথ, কোনো কাজে--
শুধু কেবল সুরে বাজে
অকাজের এই প্রাণ।
নিশায় নীরব দেবালয়ে
তোমার আরাধন,
তখন মোরে আদেশ কোরো
গাইতে হে রাজন্।
ভোরে যখন আকাশ জুড়ে
বাজবে বীণা সোনার সুরে
আমি যেন না রই দূরে
এই দিয়ো মোর মান।
বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
Amar Moner Koner Baire - মনের কোণের বাইরে -
মনের কোণের বাইরে
আমি জানলা খুলে ক্ষণে ক্ষণে চাই রে॥
কোন্ অনেক দূরে উদাস সুরে
আভাস যে কার পাই রে--
আছে-আছে নাই রে॥
আমার দুই আঁখি হল হারা,
কোন্ গগনে খোঁজে কোন্ সন্ধ্যাতারা।
কার ছায়া আমায় ছুঁয়ে যে যায়,
কাঁপে হৃদয় তাই রে--
গুন্গুনিয়ে গাই রে॥
-
রাগ: কাফি
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1328
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1921
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
ভোরের বেলা কখন এসে পরশ করে গেছ হেসে॥
ভোরের বেলা কখন এসে পরশ করে গেছ হেসে॥
আমার ঘুমের দুয়ার ঠেলে কে সেই খবর দিল মেলে—
জেগে দেখি আমার আঁখি আঁখির জলে গেছে ভেসে॥
মনে হল আকাশ যেন কইল কথা কানে কানে।
মনে হল সকল দেহ পূর্ণ হল গানে গানে।
হৃদয় যেন শিশিরনত ফুটল পূজার ফুলের মতো—
জীবননদী কূল ছাপিয়ে ছড়িয়ে গেল অসীমদেশে॥
মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
Ratri Ese Jethae Meshe - রাত্রি এসে যেথায় মেশে দিনের পারাবারে
রাত্রি এসে যেথায় মেশে দিনের পারাবারে
তোমায় আমায় দেখা হল সেই মোহানার ধারে ॥
সেইখানেতে সাদায় কালোয় মিলে গেছে আঁধার আলোয়--
সেইখানেতে ঢেউ ছুটেছে এ পারে ওই পারে ॥
নিতলনীল নীরব-মাঝে বাজল গভীর বাণী,
নিকষেতে উঠল ফুটে সোনার রেখাখানি।
মুখের পানে তাকাতে যাই, দেখি-দেখি দেখতে না পাই--
স্বপন-সাথে জড়িয়ে জাগা, কাঁদি আকুল ধারে ॥
-
রাগ: ভৈরব
তাল: ত্রিতাল বা একতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৫ আশ্বিন, ১৩১৭
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1910
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়
ফুলে ফুলে ঢ'লে ঢ'লে বহে কিবা মৃদু বায়,
তটিনী হিল্লোল তুলে কল্লোলে চলিয়া যায়
পিক কিবা কুঞ্জে কুঞ্জে কুহু কুহু কুহু গায়,
কি জানি কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায় !
-